সদ্যপ্রাপ্ত
রাজশাহী, শনিবার, ২১ এপ্রিল ২০১৮, ৮ বৈশাখ ১৪২৫
52 somachar
বুধবার ● ২১ মার্চ ২০১৮
প্রথম পাতা » আমাদের রাজশাহী » বিনোদন পিপাসুদের পদচারণায় মুখরিত পদ্মাপাড়ের ‘সীমান্তে নোঙর’
প্রথম পাতা » আমাদের রাজশাহী » বিনোদন পিপাসুদের পদচারণায় মুখরিত পদ্মাপাড়ের ‘সীমান্তে নোঙর’
১৬২ বার পঠিত
বুধবার ● ২১ মার্চ ২০১৮
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

বিনোদন পিপাসুদের পদচারণায় মুখরিত পদ্মাপাড়ের ‘সীমান্তে নোঙর’

অনলাইন প্রতিবেদক, রাজশাহী: রাজশাহীবাসীর বিনোদনের অন্যতম স্থান পদ্মানদীর পাড়। আর এই মনোরম পরিবেশে নিরাপদ বিনোদনের ব্যবস্থা করেছে বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন। যা ইতোমধ্যেই রাজশাহীর বিনোদন প্রিয়াসীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।চার বছর আগেও বিজিবির নৌ-যানের ঘাট হিসেবে ব্যবহার হতো রাজশাহী নগরের শ্রীরামপুর এলাকার পদ্মা পাড়। আশপাশের এলাকা ছিল মাদক সেবী ও ছিনতাইকারিদের অভয়ারণ্য। এখন সে এলাকাটি রাজশাহীবাসীর বিনোদনের নিরাপদ স্থান।

২০১৩ সালের জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে লিজ নিয়ে পদ্মা পাড়ের প্রায় ৬ একর জমির উপর গড়ে তুলেছে বিনোদন কেন্দ্র। সীমান্ত নোঙর ও সীমান্ত অবকাশ নামের এই দুইটি বিনোদন কেন্দ্র মূখর বিনোদন প্রিয়াসিদের পদচারণায়। পাশের গড়ে তোলা হয়েছে লালন শাহ পার্কও। সুটিং স্পট হিসেবেও স্থান করে নিয়েছে অনেকের কাছে।
১ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে: কর্ণেল শামীম মাসুদ আল ইফতেখায়ের বলেন, সীমান্ত এলাকাজুড়ে পদ্মার কারণে বিএসএফের সঙ্গে সম্মেলন বা পতাকা বৈঠক করার স্থান নিয়েও সমস্যায় পড়তে হতো বিজিবিকে। সে সমস্যা সমাধানে সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে বিজিবির সম্মেলন কেন্দ্র। এছাড়াও এখন থেকে চোরাচালানসহ সন্ত্রাসী কর্মকান্ড প্রতিরোধে পদ্মা মনিটরিংও করা হয়ে থাকে।

তিনি বলেন, বিজিবি ২০০ বৎসরের পুরানো একটি ঐতিহ্যবাহী সংস্থা। দেশের সীমান্ত ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি বিজিবি দেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে সর্বদাই সামনে থেকে কাজ করে যাচ্ছে। রাজশাহী শহরটি পদ্মানদীর পাড়ে গড়ে উঠেছে এবং অনেক পুরানো একটি জনপদ। পদ্মানদী ঘেষে সীমান্তে চলে যাওয়ায় এই অঞ্চলটি অনেক আগে থেকে মাদক ও চোরাচালানের একটি প্রধান রুট হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

ইফতেখায়ের বলেন, পদ্মার পাড় সংলগ্ন বোয়ালিয়া থানার শ্রীরামপুর এলাকার আমবাগান এলাকাটি ৫/৬ বৎসর আগেও বর্তমান যে অবস্থায় আছে সেরকম পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ছিলনা। এলাকাটি অন্ধকার, মাদক, জুয়া, ছিনতাইকারী ও চোরাকারবারীদের অভয়ারণ্য ছিল। বিজিবি পদ্মার আপর পাড়ে অপারেশনাল কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য আমবাগান এলাকাটিকে জলযান ঘাট হিসেবে ব্যবহার করতো। এরই প্রেক্ষিতে বিবিজি এই জায়গাটি ব্যবহারের জন্য প্রশাসনের নিকট আবেদন করে। উক্ত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালিন বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক ২০১৩ সালের ১২ মার্চ এই আমবাগান এলাকাটিকে শর্তসাপেক্ষে বিজিবিকে হস্তান্তর করে।

লে: কর্ণেল শামীম মাসুদ আল ইফতেখায়ের আরও বলেন, বিজিবি বাংলাদেশের একমাত্র সীমান্ত রক্ষী বাহিনী। রাজশাহী জেলাটি সীমান্তবর্তী ও নদী দ্বারা সীমান্ত বিভক্ত হওয়ায় এই অঞ্চলে প্রতিবেশী সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সাথে সম্মেলনে উপযুক্ত জায়গা না থাকায় সীমান্তে অবকাশে একটি উন্নত মানের সম্মেলন কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। যেখানে নিয়মিত সেক্টর কমান্ডার এবং ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। একই সাথে জলযান ঘাট হিসেবে ব্যবহার করে অপারেশনাল কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হয়ে থাকে।

তিনি বলেন, আমবাগাটি বিজিবি’র দখলে আসার পূর্বে উক্ত এলাকায় কোন প্রকারের বিদ্যুৎ, বিনোদন, যাতায়াতের রাস্তা বা খাবারের কোন সু-ব্যবস্থা ছিল না। জায়গাটিতে পূর্ব থেকেইে আমবাগান ছিল এবং শর্ত মোতাবেক আমবাগানের কোন ক্ষতি না করে জনসাধারণের নিরাপত্তা ও বিনোদনের কথা বিবেচনা করে সেখানে সীমান্ত নোঙর ও সীমান্তে অবকাশ নামে দুটি ছোট পরিসরের ক্যান্টিন তৈরী করে এক নান্দনিক রূপে রূপান্তর করা হয়েছে। যা বর্তমানে সৌন্দর্যের এক অপূর্ব লীলাভূমিতে পরিণত হয়েছে। বিজিবির তত্ত্বাবধানে থাকা এই এলাকাটিতে রাজশাহীবাসী মনোবিকাশের জন্য সপরিবারে নিবিঘ্নে যাতায়াত করতে পারে।

ইফতেখায়ের বলেন, কোন কোন স্বাথন্বেষী মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে যে, বিজিবি কর্তৃক জায়গাটি ব্যবহারের ফলে পদ্মানদীর মূল গতি পথের সমস্যা হচ্ছে যা আদৌ সত্য নয়। সেখানে আগে থেকেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের আই বাঁধ রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে এ করণে প্রতি বছর পলি জমে বহুদিন আগে থেকেই পদ্মা নদীতে চর সৃষ্টির মাধ্যমে নদীর গতিপথ বাঁধ এলাকা থেকে দুই কিলোমিটার নদীর অভ্যন্তরে সরে গেছে। বর্তমানে সীমান্ত নোঙর এবং সীমান্ত অবকাশ এর সামনে দুই কিলোমিটার চর বিস্তৃত রয়েছে। বর্তমানে আমবাগান ও পাশ্ববর্তী এলাকা জুড়ে এক নান্দনিক সৌন্দর্য্যের সৃষ্টি হয়েছে। যা দেখার জন্য রাজশাহী শহরবাসীসহ দূরদূরান্ত হতে প্রতিদিন বহু সংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটে।



আর্কাইভ

PropellerAds

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)