সদ্যপ্রাপ্ত
রাজশাহী, সোমবার, ২৫ জুন ২০১৮, ১০ আষাঢ় ১৪২৫
52 somachar
মঙ্গলবার ● ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৮
প্রথম পাতা » অর্থনীতি » হাজার কোটি টাকা ঋণ দিয়ে বিপাকে জনতা ব্যাংক
প্রথম পাতা » অর্থনীতি » হাজার কোটি টাকা ঋণ দিয়ে বিপাকে জনতা ব্যাংক
৯৫ বার পঠিত
মঙ্গলবার ● ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৮
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

হাজার কোটি টাকা ঋণ দিয়ে বিপাকে জনতা ব্যাংক

অনলাইন প্রতিবেদক, রাজশাহী: চামড়া খাতের কোম্পানি ক্রিসেন্ট লেদারের রফতানির অর্থ দেশে আসেনি। অথচ নিয়ম-নীতি লঙ্ঘন করে একের পর এক বিল কিনেছে জনতা ব্যাংক। এভাবে বাছবিচার ছাড়াই ব্যাংকটির পুরান ঢাকার ইমামগঞ্জ শাখা থেকে ক্রিসেন্ট লেদারকে দেওয়া হয়েছে এক হাজার ১৩৫ কোটি টাকা। একক গ্রাহকের ঋণসীমার নিয়মও এ ক্ষেত্রে মানা হয়নি। সম্প্রতি কিছু অর্থ ফেরত আনার পর এখন ব্যাংকের পাওনা দাঁড়িয়েছে ৯৯৫ কোটি টাকা। ব্যাংকের বর্তমান মূলধন অনুযায়ী একজন গ্রাহককে সর্বোচ্চ ৭৪৫ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সীমা অতিরিক্ত অর্থ একক গ্রাহককে দিয়ে এখন বিপদে পড়েছে জনতা ব্যাংক। সংশ্নিষ্ট সূত্রে এ খবর জানা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক এক পরিদর্শন প্রতিবেদনে বিষয়টি ধরা পড়ার পর এসব ঋণখেলাপি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পর নড়েচড়ে বসেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। চলতি মাসে অনুষ্ঠিত ব্যাংকটির ৫০৫ ও ৫০৬তম পর্ষদ বৈঠকে এ বিষয়ে বিশদ আলোচনা হয়। এননটেক্স নামের স্বল্প পরিচিত একটি প্রতিষ্ঠানকে সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিয়ে এমনিতেই বিপদে আছে ব্যাংকটি। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবুল বারকাত জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় ঋণসীমা লঙ্ঘন করে এননটেক্সকে এই বিপুল অঙ্কের ঋণ দেওয়া হয়। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। এরই মধ্যে একক গ্রাহকের ঋণসীমা লঙ্ঘনের নতুন আরও একটি খবর পাওয়া গেল। এ ঘটনা ঘটেছে ২০১৭ সালে। অবশ্য ক্রিসেন্ট লেদারের দায় সৃষ্টি হয়েছে ব্যাংকের শাখার মাধ্যমে। পরিচালনা পর্ষদ এটি অবহিত ছিল না।
সংশ্নিষ্টরা বলছেন, এসব ঘটনায় জনতা ব্যাংকের বিপদ একের পর এক বেড়েই চলেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের বিল বকেয়া থাকার পরও নিয়ম লঙ্ঘন করে ক্রিসেন্ট লেদারের নতুন বিল কিনেছে জনতা ব্যাংকের ইমামগঞ্জ শাখা। প্রতিষ্ঠানটির রফতানির বিপরীতে সৃষ্ট ৫৭০টি বৈদেশিক বিনিময় বিল ক্রয় (এফডিবিপি) করে গ্রাহককে এক হাজার ১৩৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়। আগের বিল মেয়াদোত্তীর্ণ থাকা অবস্থায় পরের বিল কেনার নিয়ম না থাকলেও তা কেনা হয়েছে। এখন এ ঋণ সন্দেহজনক মানে খেলাপি করে তার বিপরীতে প্রভিশন রাখতে বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ জন্য অবশ্য আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় পেয়েছে ব্যাংক। পরিদর্শন প্রতিবেদনে এ অনিয়মের ঘটনায় ব্যাংকের ইমামগঞ্জ শাখার (পরিদর্শন চলাকালীন) ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ ইকবাল (ডিজিএম), তার আগে ব্যবস্থাপক রেজাউল করিমসহ (মহাব্যবস্থাপক) শাখার সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়ী করা হয়েছে। এর পর ইকবাল ও রেজাউল করিমকে সাসপেন্ড করেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া শাখার একজন এজিএম ও এসপিওকে শাখা থেকে প্রত্যাহার করে প্রধান কার্যালয়ের মানবসম্পদ বিভাগে সংযুক্ত করা হয়েছে।
জানতে চাইলে এ বিষয়ে জনতা ব্যাংকের এমডি মো. আবদুছ ছালাম আজাদ বলেন, ক্রিসেন্ট লেদারের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার আলোকে ব্যাংক ব্যবস্থা নিচ্ছে। এরই মধ্যে ওই শাখার কয়েকজনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আরও কিছু ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। বিপুল অঙ্কের বিল বকেয়া থাকার পরও নিয়ম লঙ্ঘন করে নতুন বিল কেনার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, পদ্ধতিগত কারণে ধাপে ধাপে বিলগুলো কিনতে হয়েছে।
জানতে চাইলে ক্রিসেন্ট লেদারের চেয়ারম্যান এম এ কাদের বলেন, হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি সরিয়ে নেওয়ার সময় তিন-চার মাস কারখানা বন্ধ ছিল। তখন ক্রেতাদের যথাসময়ে পণ্য সরবরাহ করতে না পারায় কিছু বিল পেতে দেরি হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ‘ব্যবসায় উত্থান-পতন আছে। তার মানে এই নয়, টাকা মেরে দিয়ে আমি চলে যাবো।’ হংকং, চীন, ইতালি ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে রফতানির খবর জানিয়ে তিনি বলেন, সব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে। ১৯৭৬ সাল থেকে তিনি এ ব্যবসায় আছেন। এর আগে কখনো এ রকম সমস্যায় পড়েননি বলে জানান।
জানা গেছে, হংকংয়ের বায়ো লিডা ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৭৫০ ডলারের চামড়াজাত পণ্য রফতানি দেখানো হয় গত বছরের ২৭ এপ্রিল। নিয়ম অনুযায়ী, রফতানি হওয়ার ১২০ দিনের মধ্যে ওই অর্থ দেশে আনা বাধ্যতামূলক। আর অর্থ না এলে উপযুক্ত কারণ দর্শানো ছাড়া রফতানিকারককে কোনো ঋণ সুবিধা বা তার বিল কেনা যাবে না। তবে ক্রিসেন্ট লেদারের অর্থ দেশে না এলেও একের পর এক বিল কিনেছে জনতা ব্যাংক, যা ব্যাংকিং আইন-কানুনের লঙ্ঘন।
সূত্র জানিয়েছে, ক্রিসেন্ট লেদার সম্প্রতি শেয়ার হস্তান্তরের আবেদন জানিয়েছে। এ ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংক চিন্তিত। ক্রিসেন্ট লেদারের চেয়ারম্যান এম এ কাদেরের নামে বর্তমানে শেয়ার রয়েছে ৫০ শতাংশ। আর তার মা রিজিয়া বেগম এ গ্রুপের পরিচালক। স্ত্রী সুলতানা বেগম এমডি। এ দু’জনের নামে রয়েছে ২৫ শতাংশ করে শেয়ার। তবে সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এক আবেদনের মাধ্যমে রিজিয়া বেগমের নামে থাকা ২৫ শতাংশ শেয়ার স্ত্রীর নামে স্থানান্তরের কথা বলা হয়েছে। ক্রিসেন্ট গ্রুপের আবেদনের বিষয়টি সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠিয়েছে জনতা ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনের পর এ আবেদন সন্দেহের চোখে দেখছেন সংশ্নিষ্টরা। যদিও এমএ কাদের এ বিষয়ে সমকালকে বলেন, তার মায়ের বয়স ৮৫ বছর। আকস্মিক কোনো বিপদের কথা চিন্তা করে ওই শেয়ার হস্তান্তর করার আবেদন করা হয়েছে। যাতে অন্য ভাইবোন মায়ের নামে থাকা ওই শেয়ারের ওয়ারিশ হতে না পারে।
জনতা ব্যাংকের এমডি মো. আবদুছ ছালাম আজাদ এ বিষয়ে বলেন, ক্রিসেন্ট লেদারের ঋণটি একটা প্রক্রিয়ায় আনার জন্য ব্যাংক আপ্রাণ চেষ্টা করছে। এর মালিক দেশে আছেন। ফলে টাকা আদায়ের বিষয়ে ব্যাংক আশাবাদী। তিনি বলেন, বেশিরভাগ বকেয়া হয়েছে গত বছরের জুলাই থেকে। গ্রাহক তাদের জানিয়েছেন, হাজারীবাগ থেকে হেমায়েতপুরে কারখানা স্থানান্তরের ব্যস্ততার মধ্যে তিনি পণ্য খালাসসহ বিভিন্ন বিষয়ে সঠিকভাবে তদারকি করতে পারেননি। তখন ব্যস্ততার কারণে ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাননি। তবে সম্প্রতি কয়েক দফা ক্রেতাদের সঙ্গে আলাপ করে দেশে ফেরার পর তিনি অত্যন্ত আশাবাদী, দ্রুত রফতানির অর্থ ফেরত পাবেন। আগামী মার্চের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ দেশে আসবে বলে তিনি ব্যাংককে জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে ঋণ অনিয়মের তথ্য উঠে আসার পর গত ২১ জানুয়ারি ফরেন ডকুমেন্টারি বিল (এফডিবিপি) কেনার ক্ষেত্রে সতর্কতা দিয়েছে জনতা ব্যাংক। প্রধান কার্যালয় থেকে সব শাখায় পাঠানো নির্দেশনায় বলা হয়েছে, রফতানি বিল কেনার ক্ষেত্রে এখন থেকে প্রধান কার্যালয়ের অনুমতি নিতে হবে। প্রতিটি বিলের চুক্তির সঠিকতা যাচাইসহ বিদেশি ক্রেতার সন্তোষজনক ক্রেডিট রিপোর্ট ছাড়া বিল কেনা যাবে না। চুক্তিপত্রের বিপরীতে এরই মধ্যে কেনা কোনো বিল মেয়াদোত্তীর্ণ থাকলে পরবর্তীকালে ওই গ্রাহকের আর কোনো বিল কেনা যাবে না।
সার্বিক বিষয়ে জনতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আহমেদ জামাল বলেন, এসব বিষয় আগে কখনও পর্ষদে আসেনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে বিষয়টি ধরা পড়ার পর পরিচালনা পর্ষদ ক্রিসেন্ট লেদারের অনিয়মের বিষয়ে জানতে পেরেছে। জনতা ব্যাংক ওই অর্থ আদায়ের জন্য এখন খুব সক্রিয়। (তথ্যসূত্র: সমকাল)



আরো পড়ুন...

চাঁদ দেখা গেছে, কাল ঈদ চাঁদ দেখা গেছে, কাল ঈদ
উদ্বোধনী ম্যাচে বদলি খেলোয়াড়ের গোলের রেকর্ড উদ্বোধনী ম্যাচে বদলি খেলোয়াড়ের গোলের রেকর্ড
রক্তাশ্রয়ী সংগঠনের ঈদ সামগ্রী বিতরণ রক্তাশ্রয়ী সংগঠনের ঈদ সামগ্রী বিতরণ
“রাউজান স্বেচ্ছাসেবী ফাউন্ডেশন”এর উদ্যোগে বয়স্ক পূর্ণবাসন কেন্দ্রে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত “রাউজান স্বেচ্ছাসেবী ফাউন্ডেশন”এর উদ্যোগে বয়স্ক পূর্ণবাসন কেন্দ্রে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত
বৃহত্তর হেতিমগঞ্জের সড়কপথে জনতার দাবি গোলাপগঞ্জের মানববন্ধন বৃহত্তর হেতিমগঞ্জের সড়কপথে জনতার দাবি গোলাপগঞ্জের মানববন্ধন
ফ্রেন্ডস পাওয়ার স্পোর্টিং ক্লাবের উদ্যোগে অবহেলিত মানুষদের মধ্যে ইফতার বিতরণ করা হয় ফ্রেন্ডস পাওয়ার স্পোর্টিং ক্লাবের উদ্যোগে অবহেলিত মানুষদের মধ্যে ইফতার বিতরণ করা হয়
বোয়ালখালীর কল্যাণে আমরা’র এতিম ও অসহায় শিশুদের মাঝে ঈদবস্ত্র বিতরণ বোয়ালখালীর কল্যাণে আমরা’র এতিম ও অসহায় শিশুদের মাঝে ঈদবস্ত্র বিতরণ
এন আর বি ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান সি আই পি সম্মাননা পেলেন এন আর বি ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান সি আই পি সম্মাননা পেলেন
ঈদে যাত্রা পথে অসুস্থ হলে করণীয় ঈদে যাত্রা পথে অসুস্থ হলে করণীয়
গুয়েতেমালায় আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে নিহত ৭৫ গুয়েতেমালায় আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে নিহত ৭৫

আর্কাইভ

PropellerAds

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)