সদ্যপ্রাপ্ত
রাজশাহী, বৃহস্পতিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০১৯, ১১ মাঘ ১৪২৫
52 somachar
শনিবার ● ১ ডিসেম্বর ২০১৮
প্রথম পাতা » সর্বশেষ » পতিতা ও বেইশ্যারাই বোরকা পড়ে স্কুল ছাত্রীর মাকে প্রধান শিক্ষকের মন্তব্য
প্রথম পাতা » সর্বশেষ » পতিতা ও বেইশ্যারাই বোরকা পড়ে স্কুল ছাত্রীর মাকে প্রধান শিক্ষকের মন্তব্য
৯৩ বার পঠিত
শনিবার ● ১ ডিসেম্বর ২০১৮
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

পতিতা ও বেইশ্যারাই বোরকা পড়ে স্কুল ছাত্রীর মাকে প্রধান শিক্ষকের মন্তব্য

আরাফাত হোসাইন রাহেল- ডেস্ক ৫২ সমাচার

  মঙ্গলবার(২৭ নভেম্বর) বিকেল ৩ টার সময় চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থানাধীন ৪১ নং ওয়ার্ড সংলগ্ন মাইজপারা মাহমুদুন্নবী চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রি সাদিয়া ফাতেমা ইসমা বোরকা পড়ে স্কুলে আসায় উক্ত স্কুলের  প্রধান শিক্ষক এম.এ কাশেম “পতিতা ও বেইশ্যারাই বোরকা পড়ে” এরুপ মন্তব্য করেন করেন জানান তার মা নূপুর বেগম, এরপর তার মা নুপুর বেগম তাকে স্কুলে নিয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষক এম.এ কাশেম স্যার এর সাথে কথা বলতে যায় এবং তার মেয়েকে বোরকা পরে স্কুলে প্রবেশের অনুমতি না দেয়ার ব্যপারে এবং এরুপ বাজে মন্তব্য করার কারন জানতে অফিস   কক্ষে প্রবেশ করেন।

---


ছাত্রীর মা নুপুর বেগম তার মেয়ে সাদিয়া ফাতেমা ইসমা কে বোরকা পড়িয়ে স্কুলের অফিস কক্ষে প্রবেশ করলে প্রধান শিক্ষক এম.এ কাশেম বলেন, “তুমি কেন এই কক্ষে প্রবেশ করেছো ?”


সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, ছাত্রীর মা নুপুর বেগম প্রধান শিক্ষকের কাছে বোরকা পরার অনুমতি চাইলে, প্রধান শিক্ষক আলোচনা করে দেখতে হবে বলেন। এরপর ওই শিক্ষক আবার বলেন, গতকাল আসছেন, আজকে আবার কেনো আসছেন? উত্তরে অভিভাবক কিছু বলতেই উত্তেজিত হয়ে অভিভাবকের দিকে তেড়ে আসেন প্রধান শিক্ষক এম এ কাশেম। 


      

মেয়েটির মা এবং আন্টি জানান, প্রধান শিক্ষক এম.এ কাশেম এর কক্ষে প্রবেশ করলে বসার জন্য চেয়ার নেয়, এমন সময় প্রধান শিক্ষক এর সহকারী বলেন, “তুমি অনুমতি না নিয়ে কেন এই চেয়ারে বসছো?” এবং সাথে সাথে চেয়ার থেকে তাকে উঠতে বাধ্য করে বিভিন্ন অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে এবং ছাত্রীর আন্টি সেই ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে চাইলে তার মোবাইল ফোন নিয়ে মাটিতে ছুড়ে ফেলে দেয়।


এ সময় বিশেষ সূত্রে খবর পায় চট্টগ্রামের সিপ্লাস টিভির রিপোর্টার মোঃ সাকিব। খবর পেয়ে মাইজপারার উক্ত ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রধান শিক্ষক এম.এ কাশেম’র কক্ষে প্রবেশ করলে তাকেও বিভিন্ন ভাষায় গালাগালি করে এই শিক্ষক । এক পর্যায়ে ক্যামেরা বের করলে তাকে কলার ধরে ধাক্কা মারে এবং বলে, “তোমরা কোন বালের সাংবাদিক ? এসব সাংবাদিক আমি গোনি না!” এরপরে সহকারী শিক্ষকসহ অফিস পিয়নরা ক্যামেরা নিয়ে মাটিতে ছুড়ে ভেঙ্গে ফেলে তাকে মারধর করে এবং সিপ্লাস টিভির রিপোর্টার মোঃ সাকিব কে এক পর্যায়ে কক্ষ থেকে বের করে দেয়। পরে, স্কুল ছাত্রী ইসমার মা নুপুর বেগম কে ও তার আন্টি কলি আক্তার কে প্রধান শিক্ষক এম.এ কাশেম বলে, “তোদেরকে উলঙ্গ করে তোদের ছবি ফেইসবুক এ ছাড়লে কেমন হয়? যদি বেশি বাড়াবাড়ি করিস তাহলে এখন তোর গা থেকে শরীরে কোন পোষাক না রেখে বোরকা সহ সব খুলে ফেইসবুকে দিব এবং সে আরো বলে এরা বোরকা পরে পতিতালয়ে বেশ্যাবৃত্তি করে বেড়ায়।


আর এখানেও সে কারণে আসছে আমাদের সাথে রাত্রিযাপন এর প্রস্তাব দিতে।


তৎক্ষনাৎ দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশ পত্রিকার সহ- সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান এবং বিশেষ প্রতিবেদক রবিউল হোসেন এবং দৈনিক বিশ্বমানচিত্র পত্রিকার রিপোর্টার রানা লতিফ সংবাদ টি শোনার পর ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং প্রধান শিক্ষকসহ সহকারী শিক্ষকদের হাত থেকে সিপ্লাস টিভির রিপোর্টার মোঃ সাকিব কে উদ্ধার করে। ততক্ষনাৎ প্রধান শিক্ষক এম.এ কাশেম এবং সহকারী শিক্ষক ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।


ঘটনার সময় ছাত্রীর অভিভাবকের সাথে থাকা মায়া বীনি ইসলাম কলি বলেন, আমি প্রথমদিন যাইনি। তবে আন্টি বাসায় এসে খুব কান্নাকাটি করছিলেন। কেননা প্রধান শিক্ষক বোরকা পড়া নিয়ে ওনার সাথে বাজে ব্যবহার করেছেন। এছাড়াও ওইদিন প্রধান শিক্ষক ইসমার বোরকা পড়া নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেননি। সামনে ইসমার পরীক্ষা। আবার যদি কোনো ঝামেলা করে, তাই দ্বিতীয়দিন আমিসহ বিদ্যালয়ে যাই। সকাল ৯টার দিকে আমরা বিদ্যালয়ে পৌঁছি। প্রধান শিক্ষক অফিসে আসার পর আমরা অনুমতি সাপেক্ষে কক্ষে প্রবেশ করি। তখন বোরকার প্রসঙ্গ তুলতেই তিনি আমাদের গালাগাল করেন। আমি ভিডিও করছি দেখে বিদ্যালয়ের দপ্তরি, শিক্ষক ও ম্যাডামরা এসে আমার মোবাইল কেড়ে নেন। 


এরমধ্যে আমি ভিডিওটি অন্য জায়গায় পাঠিয়ে দিই। তারা নিজ হাতে আমার মোবাইল থেকে ভিডিও ডিলেট করে দেন। তারপর তারা আমাদের সাথে যাচ্ছেতাই ব্যবহার করেন। এমনকি প্রধান শিক্ষক আমাদের জঙ্গী, বেশ্যা-পতিতা বলেও মন্তব্য করেন। বারবার গায়ে হাত তোলার জন্য তেড়ে আসেন তিনি। 


কলি আরো বলেন, এ প্রধান শিক্ষক শুধু আমাদের সাথে না। পূর্বেও অনেক অভিভাবকের সাথে বাজে ব্যবহার করেছে। এ বিষয়ে পরিচালনা কমিটির সভাপতিকে অভিযোগ করেও আমলে নেন না। তাই দিনদিন বেপরোয়া হয়ে উঠছেন ওই শিক্ষক।


এলাকার লোকজন এর কাছে জানতে চাইলে এলাকাবাসী তাকে শিক্ষক হিসেবে নয় ” জঙ্গী” হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, “এইসব শিক্ষক ছাত্র-ছাত্রীদের উপর প্রায়ই অমানবিক নির্যাতন চালায় এবং কিছু বলতে গেলে পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেয়ার হুমকি দেয়। মাইজপারার এলাকাবাসী উক্ত প্রধান শিক্ষককে উক্ত স্কুলে চায়না বলে জানান।



আর্কাইভ

PropellerAds

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)