সদ্যপ্রাপ্ত
রাজশাহী, বৃহস্পতিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০১৯, ১১ মাঘ ১৪২৫
52 somachar
বৃহস্পতিবার ● ৮ নভেম্বর ২০১৮
প্রথম পাতা » খেলাধুলা » ঢাকা টেস্টের প্রস্তুতি শুরু সিলেটেই
প্রথম পাতা » খেলাধুলা » ঢাকা টেস্টের প্রস্তুতি শুরু সিলেটেই
৪১ বার পঠিত
বৃহস্পতিবার ● ৮ নভেম্বর ২০১৮
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

ঢাকা টেস্টের প্রস্তুতি শুরু সিলেটেই

আয়শা আক্তার লিজা,৫২সমাচার-ডেস্কঃ খুব বেশি দিন আগের কথা নয়। ক্যারিবিয়ান-যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দলের সঙ্গে বাংলাদেশে ফেরেননি মাহমুদ উল্লাহ। থেকে গিয়েছিলেন ক্যারিবীয় প্রিমিয়ার লিগ খেলতে।

---

এশিয়া কাপে দলের গন্তব্য যখন দুবাই, তখন সেখান থেকে সরাসরি দুবাই না গিয়ে মাত্র কয়েক ঘণ্টার জন্য এসেছিলেন বাংলাদেশে। পরিবারকে একঝলক দেখেই আবার দলের সঙ্গে চড়েন দুবাইর ফ্লাইটে। মঙ্গলবার দুপুরেই সিলেট টেস্ট শেষ হয়ে যাওয়ায় বিকেলের ফ্লাইটেই মাহমুদ ঢাকায় ফিরে যাবেন কি না, এ নিয়ে প্রেসবক্সে চলছিল জল্পনা-কল্পনা। যদিও সেদিন বিকেলে নয়, পরদিন অর্থাত্ কাল সকালে আরো সাতজনের সঙ্গে ঢাকায় ফিরেছেন মাহমুদ, সেই ফ্লাইটও কুয়াশার কারণে হয়েছে দেরি। তবে দলের সঙ্গে থাকা একজন জানিয়েছেন, দলনেতা হিসেবে নাকি আগেভাগে চলে যেতে চাননি মাহমুদ। বরং আসতে চেয়েছিলেন সবার সঙ্গেই। তড়িঘড়ি করে কাল সকালের ফ্লাইটে পাওয়া আটটি টিকিটে যাঁরা ঢাকা ফিরতে চেয়েছেন, তাঁদের মধ্যে মাহমুদই নাকি ফিরতে রাজি হয়েছিলেন সবার শেষে!

দল হেরেছে, নিজের ব্যাটেও রান নেই। সব মিলিয়ে সময়টা একদম ভালো যাচ্ছে না টেস্টের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়কের। তার ওপর ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে ‘এভাবে টেস্ট খেলার কোনো মানে নেই’ কথাটা অকপটে বলে ফেলায় তিনি নাকি অনেকেরই বিরাগভাজন হয়ে পড়েছেন। খুবই মুষড়ে পড়া মাহমুদ তাই দলের সঙ্গে থাকতে চাইলেও টিম ম্যানেজমেন্ট থেকেই তাঁকে বলা হয় ঢাকায় গিয়ে পরিবারের সান্নিধ্য উপভোগ করে সতেজ হয়েই পরের ম্যাচের জন্য তৈরি হতে। বাকিদের নিয়েই সাতসকালে স্টিভ রোডস চলে গিয়েছিলেন সিলেট স্টেডিয়ামে, অনুশীলনে। মিরপুরে সিরিজের পরবর্তী টেস্টের জন্য প্রস্তুতিতে কোনো ফাঁক রাখতে চাইছেন না এই ইংরেজ কোচ, ‘আমরা এখনই সব কিছু ফাঁস করে দিতে চাইছি না। এত সহজেই সব অর্জন হারিয়ে ফেলার কোনো কারণ দেখছি না। আমরা ক্রিকেট খেলতে চাই জেতার জন্য আর দেশের মানুষও তো চায় আমাদের জয়।’

অধিনায়ক ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলেন স্পষ্টই জানিয়েছেন, কাজ করেনি পরিকল্পনা। এতে করে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলায় পরিকল্পনা বদলের কোনো চাপ আছে কি না জানতে চাইলে রোডসের উত্তর, ‘আমি কোনো চাপ নিচ্ছি না। তবে পরের টেস্টের পরিকল্পনাটা কী হবে সেটা ঠিক করার জন্য আমরা খানিকটা অপেক্ষা করব। এই ম্যাচে সবচেয়ে খারাপ হয়েছে প্রথম ইনিংসের ব্যাটিং। আমরা টসে হেরেছিলাম, উইকেটে খুব বেশি কিছু ছিল না, এর পরও আমরা ওদের ২৮২ রানে অল আউট করেছিলাম। এরপর ব্যাটিংয়ে আমাদের সাড়ে তিন শ থেকে চার শ রান করা দরকার ছিল। আমরা যদি রান না করতে পারি, তাহলে পরে ব্যাট করাটা সব সময়ই কঠিন হবে।’ সোজা কথা, ব্যাটসম্যানদের কাছ থেকে টেস্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ন্যূনতম রানটা চাইছেন কোচ, যে চাহিদা বেশ কিছুদিন ধরেই মেটাতে পারছেন না শিষ্যরা। কোচ মনে করেন, এই সমস্যার সমাধান হলেই কেটে যাবে অনেকগুলো সংকট, ‘১৪০ রানের মতো করে অল আউট হয়ে, আরো ১৪০ রানে পিছিয়ে থেকে যখন আমরা তৃতীয় ইনিংসে খেলতে নামছি, ততক্ষণে সর্বনাশ যা হওয়ার হয়ে গেছে। যা-ই হোক না কেন এই জায়গাটা আমাদের ঠিক করতে হবে, মিরপুরে এটাই আমাদের পরিকল্পনা।’

জাতীয় দল ব্যর্থ হলেই দলের বাইরে থাকাদের দলে নেওয়ার একটা শোরগোল শুরু হয়ে যায়। বিশেষ করে তুষার ইমরানের জাতীয় লিগে রানবন্যা আর তারকা ও প্রতিভাবানদের জাতীয় লিগে রানখরা নিয়ে যখন অনেকেই নির্বাচকদের সমালোচনায় ব্যস্ত! রোডস মনে করেন, সম্ভাব্য সেরাদের নিয়েই দল গড়া হয়েছে এবং এই মুহূর্তে তাঁর হাতে আর কোনো বিকল্প নেই, ‘জাতীয় দলের যারা জাতীয় লিগে খেলেছে, সবাই তো অনেক অনেক রান করেছে। যাদের কথা বলা হচ্ছে, সেইসব ক্রিকেটারের চেয়েও জাতীয় দলে ডাক পাওয়াদের অনেকেই বেশি রান করেছে। (নাজমুল) শান্ত ১৮০ রানের ইনিংস খেলেছে, (লিটন) দাশ দুই শ করেছে, মমিনুল তার সবশেষ ম্যাচে ১০০ করেছে, আরিফুল ডাবল সেঞ্চুরি করেছে। তাই বলা যায়, অনেক রান হচ্ছে। সাকিব-তামিম বাদ দিলে আমার হাতে এরাই সেরা ক্রিকেটার, এই মুহূর্তে ওদের ওপরেই আমরা আস্থা রাখছি।’ রোডসের কাছে জিম্বাবুয়ের কাছে প্রথম ইনিংসে ১৪৩ রানে অল আউট হওয়াটা তাই সাধারণ সামর্থ্যের বাইরে এমন একটা দিন, যেদিন সব হয়েছ খারাপ, ‘সবারই খারাপ দিন যায়, যে কারোরই কাজের জায়গায় একটা খারাপ দিন আসতেই পারে। প্রথম ইনিংসটা আমাদের সেরকমই খুবই খুবই খারাপ একটা দিন গেছে। আমাদের হাতে যেসব খেলোয়াড় আছে, তাদের নিয়েই আমরা সব কিছু ঠিকঠাক করার চেষ্টা করব।’

রোডস দায়িত্ব নিয়েছেন খুব বেশি দিন নয়। টেস্ট অভিষেকেই তিনি দেখেছেন দলকে ৪৩ রানে গুটিয়ে যেতে। এরপর দেখলেন দেশের মাটিতে ক্ষয়িষ্ণু শক্তির জিম্বাবুয়ের কাছে হেরে যেতে। এভাবে চললে যে রোডসের ‘রোড’ খুব বেশি লম্বা হবে না, সেটা তিনি ভালো করেই জানেন! এখন মিরপুরেই ইউটার্ন খুঁজছেন রোডস, ‘পরের টেস্টে ভালো একটা ফল আশা করব। আমরা খুব চেষ্টা করব যে ফলটা খুঁজছি সেটা পাবার।



আর্কাইভ

PropellerAds