সদ্যপ্রাপ্ত
রাজশাহী, সোমবার, ২২ অক্টোবর ২০১৮, ৭ কার্তিক ১৪২৫
52 somachar
শনিবার ● ৬ অক্টোবর ২০১৮
প্রথম পাতা » প্রধান সমাচার » ওসমানীনগরে দিন দিন বাড়তেছে রোড এক্সিডেন্ট
প্রথম পাতা » প্রধান সমাচার » ওসমানীনগরে দিন দিন বাড়তেছে রোড এক্সিডেন্ট
৪৮ বার পঠিত
শনিবার ● ৬ অক্টোবর ২০১৮
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

ওসমানীনগরে দিন দিন বাড়তেছে রোড এক্সিডেন্ট

রনিক পাল, ওসমানীনগর প্রতিনিধি, ৫২ সমাচারঃ সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগর অংশে সড়ক দুর্ঘটনায় লাশের মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। এসব দুর্ঘটনায় ঝরে পড়ছে তাজা প্রাণগুলো। দুর্ঘটনার শিকার হয়ে অনেকেই চির দিনের জন্য পঙ্গুত্ব বরণ করে শয্যাশায়ী হয়ে জীবন পার করছেন।

ক্রমেই সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষজন উদ্বিগ্ন রয়েছেন। মহাসড়কে ভাঙন, বিশাল আকৃতির গর্ত, অদক্ষ চালক, রাস্তা পারাপারের নিদের্শনা না মানায় দিনদিন দুর্ঘটনা বাড়ছে। গাড়ী চলাচলের গতিবেগের নির্দেশনার আইন থাকলেও মাহাসড়কের ওসমানীনগর অংশে তা মানা হচ্ছেনা। এমনকি শিক্ষা প্রতিষ্টানগুলোর সামনেও যান চলাচলের গতিবেগের নির্দেশনা নেই। তাই অনতিবিলম্বে মহাসড়ককে চার লেনে উন্নিতকরণের কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি ওঠেছে।

এদিকে, মহাসড়কে ত্রুটিপূর্ণ কাগজ নিয়েও দূরপাল্লার বিলাসবহুল যানবাহনগুলো চলাচল করছে। এসব গাড়ির চালকদের অধিকাংশই লাইসেন্সধারী নয়। অনেক চালকরা আবার ছোট গাড়ীর লাইসেন্স দিয়ে বড় ও দূরপাল্লার গাড়ীগুলো চালিয়ে আসছেন বলেও জানা গেছে। দুর্ঘটনা ঘটানো দুর পাল্লার গাড়ীর অভিযুক্ত চালক ও মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হলেও আইনের ফাঁকে তারা অনায়াসেই পার পেয়ে যাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে জনমনে ক্ষোভের শেষ নেই।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, মহাসড়কের ওসমানীনগর অংশে ১৬ মাসে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ মিলিয়ে ৩৪ জনের প্রাণ হানি ঘটেছে। আহত হয়েছেন প্রায় আরো শতাধিক যাত্রী ও পথচারী। ২০১৭ সালের জুন-ডিসেম্বর পর্যন্ত পৃথক ১১টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৩ আহত প্রায় ৩০ এবং  চলতি বছরের জানুয়ারী থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত পৃথক ১৪ টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২১ ও প্রায় অর্ধ শতাধিক আহত হয়েছেন।

২০১৭ সালের ৮ জুন মহাসড়কের ভাঙ্গা নামক স্থানে গজিয়া প্রাইমারী স্কুলের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র নয়ন মিয়া (১১) বাস চাপায় এবং ৫ জুলাই শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস ও সিএনজির মুখোমখী সংঘর্ষে ৪ জন নিহত হন। নিহতরা হলেন- উপজেলার বুরুঙ্গা ইউনিয়নের আনোয়ারপুর গ্রামের আসকন্দর আলী (৫৫), পুর্ব সিরাজনগর এলাকার মঙ্গল মিয়া (১৯), নিজ বুরুঙ্গার আলী হোসেন (৩৫) ও শব্দকর পাড়ার মিন্টু শব্দকর টেনাই (৩৮)। ৮ জুলাই ওসমানীনগর থানার অদুরে ভার্ড চক্ষু হাসপাতালের সামনে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় সকিরুন বেগম (৪৪) নামে এক পথচারী নিহত হন। তিনি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার চরাউন খুশহালপুর গ্রামের মোস্তফা মিয়ার স্ত্রী। ২০ জুলাই ভোরে মহাসড়কের গোয়ালাবাজারে ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানের সংঘর্ষে মিরাজ মিয়া (২০) নামের কাভার্ড ভ্যানের হেলপার নিহত হন। তিনি বান্দরবন জেলার আলীকদম উপজেলার আব্বাস কারবারীপাড়া গ্রামের রফিক মিয়ার ছেলে।

২৫ আগস্ট সন্ধ্যায় বেগমপুর নামকস্থানে প্রাইভেটকার চাপায় সঞ্জব আলী (৪০) নামের এক ব্যক্তি নিহত হন। তিনি উপজেলার খছরুপুর গ্রামের মৃত আবারক আলীর পুত্র। ৪ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ গোয়ালাবাজারে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় মাসুক মিয়া (৬৫) নামের এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। তিনি উপজেলার কালাসারা গ্রামের মৃত তহির আলীর ছেলে। ২৬ সেপ্টেম্বর গোয়ালাবাজার এলাকায় যাত্রীবাহি মিনিবাসের চাপায় ময়না মিয়া ওরফে মন্তই (৬০) নামের এক পথচারি নিহত হন। তিনি উপজেলার বুরুঙ্গা ইউনিয়নের কামারগাঁও গ্রামের মৃত ছাইম উল্যার ছেলে। ৬ অক্টোবর মহাসড়কের চিন্তামইন এলাকায় সিএনজির ধাক্কায় এক মোটর সাইকেল আরোহী নিহত হন। তিনি বিশ্বনাথ উপজেলার পুরানসিরাজ এলাকার মৃত আব্দুল মুতলিবের পুত্র হাবিবুর রহমান (৫৪)। ২২ নভেম্বর মহাসড়কের ওসমানীনগর থানার সামনে প্রাইভেটকার, সিএনজি ও মাইক্রোবাসের ত্রিমুখী সংঘর্ষে এক পথচারী নিহত ও ৫ জন আহত জন। নিহত ব্যক্তি উপজেলার ভুদরপুর গ্রামের অরুন গুণ (৫২)। ২২ ডিসেম্বর মহাসড়কের ব্রাহ্মণগ্রাম এলাকায় দুই ট্রাকের মুখোমুখী সংঘর্ষে সহকারী চালক নিহত হন। তিনি পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার আরকান্দি গ্রামের ইউসুব আলীর পুত্র মাজেদুল হক (২২)। এদিকে একই দিনে কাগজপুর এলাকায় বাসের ধাক্কায় দুই মোটর সাইকেল আরোহী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা কবির খান ও উপজেলা ছাত্রদল নেতা এমদাদ আহমেদ আহত হন।

২০১৮ সালের ২৮ এপ্রিল কাগজপুর ব্রীজের উপরে বাসের ছাদ থেকে পড়ে এক অজ্ঞাত যুবক নিহত হয়েছে। ৩ মে কুরুয়া এলাকায় বাস চাপায় মোটর সাইকেল আরোহী বালাগঞ্জ উপজেলার বোয়ালজুর ইউনিয়নের ছান্দাইপাড়া গ্রামের আব্দুল কদ্দুছের ছেলে সাইদুল ইসলাম পংকি (৪১) নিহত হন। ১৩ মে মহাসড়কের দয়ামীর কোনাপাড়া নামকস্থানে একটি প্রাইভেট কার সড়কের বাঁক অতিক্রম কালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুকুরে পড়ে গেলে চালক শামীম মিয়া (৩৫) নিহত হন। তিনি সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার তাতিকোনা গ্রামের জাহাঙ্গীর মিয়ার পুত্র।

১৯ মে গোয়ালাবাজার ব্রাহ্মণগ্রাম এলাকায় একটি মাইক্রো (ঢাকা মেট্রো ঠ ১১-৪৩১২) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশে ধানী জমিতে পড়ে মাইক্রো চালকসহ ৩জন মারাত্মক আহত হন।



পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)