সদ্যপ্রাপ্ত
রাজশাহী, সোমবার, ২২ অক্টোবর ২০১৮, ৭ কার্তিক ১৪২৫
52 somachar
শুক্রবার ● ৫ অক্টোবর ২০১৮
প্রথম পাতা » ভ্রমণ » ঘুরে আসুন বাংলাদেশের ঝর্ণা রানী ‘খৈয়াছড়া ঝর্ণা’
প্রথম পাতা » ভ্রমণ » ঘুরে আসুন বাংলাদেশের ঝর্ণা রানী ‘খৈয়াছড়া ঝর্ণা’
২৯ বার পঠিত
শুক্রবার ● ৫ অক্টোবর ২০১৮
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

ঘুরে আসুন বাংলাদেশের ঝর্ণা রানী ‘খৈয়াছড়া ঝর্ণা’

নিজস্ব প্রতিবেদক, ৫২সমাচারঃ খৈয়াছড়া ঝর্ণা (Khoiyachora Waterfall) সীতাকুণ্ডের মিরসরাইয়ে অবস্থিত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ঝর্ণাগুলোর মধ্যে অন্যতম। খৈয়াছড়া ঝর্ণার নয়টি ধাপ ও নান্দনিক সৌন্দর্য্য দেখে ভ্রমণপিয়াসী মানুষ প্রতিনিয়তই মুগ্ধ হচ্ছে। গ্রামের সবুজ শ্যামল আঁকাবাঁকা মেঠো পথ আর পাহাড়ের হাতছানিতে অনন্য খৈয়াছড়ার আবেদন উপেক্ষা করা বেশ কঠিন তাইতো প্রকৃতিপ্রেমীরা খৈয়াছড়া ঝর্ণাকে বাংলাদেশের ঝর্ণা রানী হিসাবে আখ্যা দিয়েছেন।বড়তাকিয়া বাজার থেকে ৪.২ কিলোমিটার দূরত্বে খৈয়াছড়া ঝর্ণাটির অবস্থান। বাঁশের সাকো, আঁকাবাঁকা ক্ষেতের আইল, পাহাড়ী পথ, ছড়া, ঝিরিপথ ও পাহাড় পেরিয়ে খৈয়াছড়া ঝর্ণার মুখোমুখি হলে পথের সমস্ত ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। ঝর্ণার শীতল জলে গা ভেজালে অপার্থিব প্রশান্তিতে মন ভরে উঠে।
খৈয়াছড়া ঝর্ণা যাওয়ার উপায়
ঢাকা থেকে খৈয়াছড়া ঝর্ণা

ঢাকা থেকে বাসে: ঢাকার যে কোন জায়গা থেকে চট্রগ্রাম গামী যে কোন বাসে করে খৈয়াছড়া ঝর্ণা যেতে পারবেন। এস আলম, শ্যামলি, সৌদিয়া, ইউনিক, হানিফ, ঈগল, এনা প্রভৃতি পরিবহনের নন এসি বাস ভাড়া ৪২০- ৪৮০ টাকা। এসি বাসের মধ্যে গ্রিনলাইন, সৌদিয়া, সোহাগ, টি আর এইসব বাস ভাড়া ৮০০-১১০০ টাকা। আপনার পছন্দ মত বাসে এসে মিরসরাই এর বড়তাকিয়া বাজারের কাছে খৈয়াছড়া আইডিয়াল স্কুলের সামনে নেমে যেতে হবে। এছাড়া সায়েদাবাদ বাস স্ট্যান্ড থেকে স্টার লাইন পরিবহনে ফেনী (ভাড়া ২৮০ টাকা) এসে লোকাল বাসে মিরসরাই এর বাজারের কাছে খৈয়াছড়া আইডিয়াল স্কুলের সামনে আসতে পারবেন।

ঢাকা থেকে ট্রেনে: ঢাকা থেকে চট্রগ্রাম গামী যে কোন আন্তঃনগর ট্রেনে এসে ফেনী স্টেশনে নামতে হবে। শ্রেনী ভেদে ট্রেন ভাড়া জন প্রতি ২৬৫-৮০০ টাকা। ফেনী স্টেশন থেকে ১০-১৫ টাকা রিক্সা/অটো দিয়ে ফেনী মহিপাল বাস স্ট্যান্ড যেতে হবে। সেখান থেকে লোকাল বাসে মিরসরাই এর বড়তাকিয়া বাজারের কাছে খৈয়াছড়া আইডিয়াল স্কুলের সামনে নেমে যেতে হবে।

চট্রগ্রাম থেকে খৈয়াছড়া ঝর্ণা

চট্টগ্রাম নগরের অলংকার সিটি গেইট থেকে কিছু লোকাল বাসে করে মিরসরাই এর বড়তাকিয়া বাজারের কাছে খৈয়াছড়া আইডিয়াল স্কুলের সামনে যাওয়া যায়।

সিলেট থেকে খৈয়াছড়া ঝর্ণা

সিলেট থেকে বাস কিংবা ট্রেনে আসতে পারবেন। চট্রগ্রাম গামী যে কোন বাসে উঠে নেমে যেতে হবে মিরসরাই এর আগে ঠাকুরদিঘী বাজারে। ট্রেনে আসতে চাইলে আন্তঃনগর ট্রেন পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ও উদয়ন এক্সপ্রেসে কিংবা মেইল ট্রেন জালালাবাদ এক্সপ্রেসে ফেনী স্টেশন পর্যন্ত এসে নেমে যেতে হবে। ফেনী স্টেশন থেকে ১০-১৫ টাকা রিক্সা/অটো দিয়ে ফেনী মহিপাল বাস স্ট্যান্ড যেতে হবে। সেখান থেকে লোকাল বাসে ৩০-৪০ টাকা ভাড়ায় মিরসরাই এর বড়তাকিয়া বাজারে নেমে যেতে হবে।
বড়তাকিয়া বাজার থেকে খৈয়াছড়া ঝর্ণা

খৈয়াছড়া আইডিয়াল স্কুলের কাছে এসে ১০০ টাকা সিএনজি ভাড়ায় খৈয়াছড়া ঝর্ণার ঝিরির কাছে আসতে পারবেন। আর যদি সম্পূর্ণ পথ ট্র্যাকিং করে যেতে চান তবে স্থানীয় যে কাউকে জিজ্ঞাসা করলে পথের সন্ধান পাবেন। ঢাকা চট্টগ্রাম হাইওয়েতে নেমে পূর্বদিকে গ্রামের রাস্তা ধরে মিনিট দশেক হাঁটার পর রেললাইন পাবেন। রেললাইন পার হয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট হাঁটলে ঝিরির দেখা পাবেন।

জঙ্গলের ভেতর দিয়ে ঝিরিপথ ধরে প্রায় ঘণ্টা দেড়েক হাঁটলে খৈয়াছড়া ঝর্ণার কাছে পৌঁছে যাবেন। পথে আরো ভ্রমণকারীর সন্ধান পাবেন তাই পথ হারাবার ভয় নেই বললেই চলে। তবুও বিশেষ প্রয়োজনে ঝিরি পথের শুরুর জায়গা থেকে গাইড নিয়ে নিতে পারবেন।

কোথায় থাকবেন

খৈয়াছড়া ঝর্ণার কাছে ও বড়তাকিয়া বাজারে থাকার কোন ব্যবস্থা নেই কিন্তু বিশেষ প্রয়োজনে থাকতে চাইলে সেখানকার চেয়ারম্যানের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। তবে সীতাকুন্ডে আপনি থাকার জন্য স্থানীয় কিছু হোটেল পাবেন। এদের মধ্যে সৌদিয়া ও সাইমুন অন্যতম। সাইমুন ও সৌদিয়ায় থাকতে আপনাকে ৩০০ থেকে ১৬০০ টাকা খরচ করতে হবে।

কোথায় খাবেন

খৈয়াছড়া ঝর্ণায় যাবার পথে বেশ কিছু খাবার হোটেল পাবেন। সেখানে আপনার মেন্যু অনুযায়ী খাবারের অর্ডার করে ফেরার পথে খেয়ে যেতে পারবেন। এই সব স্থানীয় হোটেলে অনেক স্বল্পমূল্যে খাবার খেতে পারবেন তবুও প্রয়োজনে দাম যাচাই করে নিতে পারেন। তবে মনে রাখা ভাল বিকাল ৫ টার পর এখানকার সব স্থানীয় খাবার হোটেল বন্ধ হয়ে যায়।

এছাড়া সীতাকুণ্ডের ফিরে এসে সৌদিয়া রেস্তোরা, আপন রেস্তোরা কিংবা আল আমিন রেস্টুরেন্টে পছন্দের খাবার খেতে পারবেন।



পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)