সদ্যপ্রাপ্ত
রাজশাহী, বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ১ অগ্রহায়ন ১৪২৫
52 somachar
শুক্রবার ● ১৭ আগস্ট ২০১৮
প্রথম পাতা » রাজনীতি » নবরূপে আসছে সিলেট মহানগর আওয়ামীলীগ, আলোচনায় নাদেল
প্রথম পাতা » রাজনীতি » নবরূপে আসছে সিলেট মহানগর আওয়ামীলীগ, আলোচনায় নাদেল
২২৯৬ বার পঠিত
শুক্রবার ● ১৭ আগস্ট ২০১৮
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

নবরূপে আসছে সিলেট মহানগর আওয়ামীলীগ, আলোচনায় নাদেল

---

রাসেল, সিলেট প্রতিবেদকঃ সদ্য অনুষ্ঠিত সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দল সমর্থিত মেয়রপ্রার্থীর পরাজয়ের পর নড়েচড়ে বসেছে আওয়ামী লীগ। পরাজয়ের নেপথ্যে সাংগঠনিক দুর্বলতাকেই বড় করে দেখছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেটের আসনগুলোয় দলীয় প্রার্থীর জয় নিশ্চিত করতে সিলেটের সাংগঠনিক কাঠামো ঢেলে সাজাতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দ্রুতই ঢেলে সাজানো হবে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও দলীয় মেয়রপ্রার্র্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের পরাজয়ে ক্ষুব্ধ আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নির্বাচনের দুদিন পর গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে আসেন কামরান। ওই দিনই প্রধানমন্ত্রী কামরানকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ ঢেলে সাজানো হবে। কামরান বর্তমানে একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতির পদে রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কামরানকে কেন্দ্রেই রাখা হবে, মহানগরের দায়িত্ব দেওয়া হবে নতুন কাউকে।

ওই দিন সন্ধ্যায় গণভবনে উপস্থিত আওয়ামী লীগের দুজন কেন্দ্রীয় নেতা সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি মোটামুটি সাজিয়ে ফেলেছেন। শোকের মাস, এ কারণে আগস্টে কমিটি ঘোষণা করা হবে না। সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে মহানগর আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে। দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা সাংবাদিকদের জানান, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দীন আহমদ। সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক নাম রয়েছে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গুডবুকে। সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক ও সভাপতি এবং বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম নাদেল। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা বিবেচনায় শফিউল আলম নাদেল সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ পেতে পারেন বলেন বিজ্ঞজনেরা ধারনা করছেন।

এ বিষয়ে সিলেট বিভাগে বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ সাংবাদিকদের বলেন, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগকে ঢেলে সাজানো হবে। বর্তমান সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরান যেহেতু কেন্দ্রীয় কমিটিতে আছেন, তাই মহানগরে অন্য কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। সিলেট আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, সিটি নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর দলে পরিবর্তন আনা আবশ্যিক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উল্লেখ্য, শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলের রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়েছিল ১৯৮৬ সালে সিলেট শহর স্কুল (বর্তমান সিলেট সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়) ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে। এরপর ১৯৮৭ সালে সিলেট এম.সি কলেজ ছাত্রলীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন এবং ১৯৮৯ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত সিলেট জেলা ছাত্রলীগের কার্যকরী কমিটির সদস্যের দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৯৩ সালে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং ১৯৯৭ সালে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।

২০০৪ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত সিলেট মহানগর আওয়ামীলীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০১২ইং সালে সিলেট মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন।

সিলেটর সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া নাদেল এর রাজনীতির বাইরে আরেক পরিচয় তিনি একজন দক্ষ ক্রীড়া সংগঠক .অর্থমন্ত্রীর সহায়তায় নাদেলের হাত দিয়ে গড়ে উঠেছে আজকের এই নয়নাভিরাম সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম. দুইবারের বিসিবি পরিচালক তার দক্ষ পরিচালনানায় সিলেট সফলতার সাথে দুইটি ওর্য়ালড কাপ সমপন্ন হয় এবং সারা বাংলাদেশের মধ্যে সেরা ভ্যেনু মর্যাদা পায় এবং তার সাংগঠনিক দক্ষতার কারনে সিলেটের মানুষ সিলেটে বসে প্রথমবারের মত বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের খেলা দেখতে পায় .তার ওমেনস উইংস এর চেয়ারম্যেন নির্বাচীত হওয়ার পর যেন ওমেনস ক্রিকেট দল রাতারাতি পরিবর্তন চলে আসে এশিয়াতে শ্রেষ্ঠেত্যের সাথে সাথে এশিয়ার বাইরেও আমাদের মেয়েরা ভাল ফল নিয়ে আসছে . এ সবই সম্ভব হয়েছে দক্ষ পরিচালনা ও সমপযোগী সিদ্ধান্তের কারনে।

ছাত্ররাজনীতির দীর্ঘ সময়ে তিনি এরশাদ বিরোধী আন্দোলন, বহুজাতিক তেল-গ্যাস কম্পানী “সিমিটা’র” বিরুদ্ধে আন্দোলন, সৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মহিলা হলের (জাহানারা ইমাম) নামকরন নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তির পায়তারা প্রতিহত করতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল সংগঠনকে নিয়ে আন্দোলন সহ বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহন করেন এবং নেতৃত্বদান করেন। যার ফলশ্রুতিতে বারবার কারাবন্দী হন তিনি। সর্বশেষ ২০০৭ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সংগ্রাম ও আন্দোলনের অভিযোগে আবারও কারাবরণ করতে হয় তাকে।

এছাড়াও সিলেটের বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষের সাথে শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলের রয়েছে অত্যন্ত সুসম্পর্ক৷

একজন রাজনীতিবিদ এবং ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে সিলেটের ছাত্রলীগ যুবলীগ আইনজীবী সাংবাদিক চিকিৎসক সহ সকল শ্রেনীপেশার মানুষের কাছে তিনি সমানভাবে সমাদৃত৷ আর বিশিষ্টজনেরা মনে করছেন, শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলের হাতে মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব দিলে তা হবে সময়ের সঠিক সিদ্ধান্ত৷ যা আগামী ইলেকশনে আওয়ামীলীগ তথা নৌকা প্রতীকের জয়ে রাখবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।



আর্কাইভ

PropellerAds

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)