সদ্যপ্রাপ্ত
রাজশাহী, শনিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৮, ৫ কার্তিক ১৪২৫
52 somachar
রবিবার ● ৩ জুন ২০১৮
প্রথম পাতা » রকমারি » রমযানের রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের হাদিস
প্রথম পাতা » রকমারি » রমযানের রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের হাদিস
১৫৯ বার পঠিত
রবিবার ● ৩ জুন ২০১৮
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

রমযানের রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের হাদিস

অনলাইন প্রতিবেদক : রমযানের ফযিলত সম্পর্কে সমাজে বহুল প্রচারিত একটি হাদিস হল-
من تقرب فيه بخصلة من الخير كان كمن أدى فريضة فيما سواه ومن أدى فيه فريضة كان كمن أدّى سبعين فريضة فيما سواه ، وهو شهر أوله رحمة وأوسطه مغفرة ، وآخره عتق من النار
“যে ব্যক্তি রমযানে একটি নেক কাজ করলো, সে যেন অন্য মাসে একটি ফরয আদায় করলো। আর যে এ মাসে একটি ফরয আদায় করলো, সে যেন অন্য মাসে শত্তুরটি ফরয আদায় করলো। রমযান এমন একটি মাস যার প্রথম দশ দিন রহমত, দ্বিতীয় দশদিন মাগফিরাত ও তৃতীয় দশদিন জাহান্নাম থেকে মুক্তির।”
Best Electronics Productsহাদীসটি ইবনে খুযাইমা তার সহিহ গ্রন্থের ১৮৮৭ নং হাদিসে উল্লেখ করে ‘যদি সহিহ হয়’ বলে হাদিসটির শুদ্ধতা সম্পর্কে সন্দেহের কথাও ব্যক্ত করেছেন। ইমাম বাইহাকী তার সংকলিত গ্রন্থের শু’আবুল ঈমান অধ্যায়ে ৩৬০৮ নং হাদিসে এনেছেন। এছাড়াও কানযুল উম্মাল, আত তারগীব ইত্যাদি গ্রন্থে হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে।

এ হাদীসটি আমাদের সমাজে রমযানের ফযিলত সম্পর্কে বর্ণিত হাদীসগুলোর মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ। অথচ হাদীসটি সনদের দিক থেকেও শুদ্ধ নয়, বক্তব্যের দিক থেক শুদ্ধ নয়।
প্রথমত সনদের দিক দিয়ে হাদীসটি শুদ্ধ নয়, দুই কারণে :
এক. সবগুলো বর্ণনায় দেখা যায়, হাদীসটি সালমান ফারেসী রা. থেকে সায়ীদ ইবনুল মুসাইয়াব বর্ণনা করেছেন। কিন্তু সায়ীদ ইবনুল মুসাইয়াবের সাথে সালমান ফারেসীর দেখা-সাক্ষাত যে হয়নি তা সকলের জানা।
দুই. হাদীসটির সকল বর্ণনায় দেখা যায় এর মধ্যে ‘আলী বিন যায়েদ ইবনে জুদআন’ নামে একজন বর্ণনাকারী আছেন।
তিনি একজন দুর্বল বর্ণনাকারী। যারা তাকে দুর্বল বলেছেন, তারা হলেন: হাফেজ ইবনে হাজার., ইবনে মুয়ীন, ইমাম আহমাদ, ইমাম নাসায়ী, ইবনে খুযাইমা, জুযযানী প্রমূখ। (দেখুন : সিয়ারু আ’লামিন নুবালা)
অপরদিকে অন্যান্য হাদীস বিশারদগণ হাদীসটিকে মুনকার (প্রত্যাখ্যানযোগ্য) বলে মত দিয়েছেন। এদের মধ্যে আছেন, আল্লামা আইনী, আবু হাতেম আর রাযী, শাযখ আলবানী রহ. প্রমুখ।
(দেখুন : উমদাতুল কারী ২০/৯; সিলসিলাতুল আহাদীসিল মাওদুআহ ওয়াদ দয়ীফাহ- ২য় খন্ড, নং ২৬২)
আরো আশ্চর্য কথা হল, ইবনে খুযাইমা এ হাদীসটিকে তার সহীহ নামক কিতাবে উল্লেখ করে মন্তব্য করেছেন : ইন সাহহাল খবর (যদি হাদীসটি সহীহ হয়।)
কিন্তু পরবর্তী সংকলকগণ, ইন শব্দটা দেখেননি। ফলে তারা শুধু সাহহা শব্দটি উদৃত করেছেন। যার অর্থ হাদীসটি সহীহ। এ বিভ্রান্তির কারণে অনেকে মনে করেছেন, ইবনে খুযাইমা হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। আসলে তা নয়।

হাদীসটি বক্তব্যের বিষয়বস্তু থেকেও দুর্বল।
কারণ:
এক. এ হাদীসে রহমত-কে প্রথম দশকে, মাগফিরাত-কে দ্বিতীয় দশকে আর নাজাত-কে তৃতীয় দশকে আবদ্ধ করা হয়েছে। অথচ আমরা জানি আল্লাহ তাআলার রহমত ও মাগফিরাত ব্যাপক-বিস্তৃত। এটা কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত। তাই আল্লাহ তাআলার ব্যাপকবিস্তৃত বিষয়কে সংকীর্ণ করে ফেলার অধিকার আমাদের নেই। আমাদের বিশ্বাস রাখতে হবে, রমযানের প্রতিটি দিন রহমত, মাগফিরা, বরকত ও নাজাত দিয়ে সমৃদ্ধ।

দুই. তিরমিজী বর্ণিত সহীহ হাদীসে এসেছে :
রমযান মাসের প্রথম রজনীর যখন আগমন ঘটে তখন শয়তান ও অসৎ জিনগুলোকে বন্দি করা হয়। জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়, এ মাসে একটি দরজাও খোলা হয় না। জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়, এ মাসে তা আর বন্ধ করা হয় না। প্রত্যেক রাতে একজন ঘোষণাকারী এ বলে ঘোষণা দিতে থাকে যে, হে সৎকর্মের অনুসন্ধানকারী তুমি অগ্রসর হও! হে অসৎ কাজের অনুসন্ধানকারী তুমি থেমে যাও! এ মাসের প্রতি রাতে আল্লাহ তাআলা জাহান্নাম থেকে বহু মানুষকে মুক্তি দিয়ে থাকেন।
এ হাদীসে আমরা দেখতে পাচ্ছি, জাহান্নাম থেকে নাজাত রমযানের প্রতি রাতেই ঘটে।
তাই এ নাজাতকে শুধু শেষ দশকের সাথে নির্দিষ্ট করে দেওয়া ঠিক হবে না।

তিন. এ মাসে একটি ফরয আদায় করলে সত্তরটি ফরয আদায় করার সওয়াব পাওয়া যাবে আর একটি নফল আদায় করলে একটি ফরয আদায়ের সওয়াব পাওয়া যাবে।

এ বক্তব্যটি সহীহ হাদীসের আলোকে সঠিক নয়। নফল কখনো ফরযের সমতুল্য হতে পারে না। প্রতিটি নেক আমলের সওয়াব দশগুণ থেকে সাতশতগুণ ও তারচেয়ে বেশী দেয়া হবে বলে সহীহ হাদীসে এসেছে। কিন্তু রোযার সওয়াব আল্লাহ তাআলা নিজেই দেবেন। যত ইচ্ছা তত দেবেন। এ বক্তব্য সহীহ সূত্রে হাদীসে কুদসী দ্বারা প্রমাণিত। তাই এটা নির্দিষ্ট করা ঠিক হতে পারে না।

তাই সঠিক বিষয়টি জানার পর আমাদের কর্তব্য হল এ হাদীসটি প্রচার ও প্রসার না করা। রমযানের ফযিলত সম্পর্কে সহিহ সূত্রে বর্ণিত হাদিসগুলোই বলা ও তার উপর আমল করা। কেননা, রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন- “যে ব্যক্তি আমার ব্যাপারে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যারোপ করে সে যেন তার ঠিকানা জাহান্নামে নির্ধারণ করে নেয়।”

৫২সমাচার/এলটি



পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)